শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অটোরিকশাচালকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে সোহান (১৯) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কয়রাকুড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সোহান কয়রাকুড়ি গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই বিকালে উপজেলার বেকিকুড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক খলিলুর রহমান সপরিবারে ভটপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, ঘরের প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবে রাখা এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে একপর্যায়ে সোহান প্রকাশ্যে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে তিনি এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় আরেক যুবকের নাম বলেন। তবে ওই যুবকের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র না পেয়ে এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দেন।
ঘটনার কিছুদিন পর সোহান খলিলুর রহমানের প্রতিবেশী ও স্যানিটারি-ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মুক্তার জড়িত বলে জানান। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম ও তথ্য দেওয়ায় চুরির ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ দিকে স্থানীয় একটি চক্র মুক্তারকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী খলিলুর রহমানকে প্রতিকার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে কমিশনভিত্তিক চুক্তি করার অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে। এতে চুরির ঘটনা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন ভুক্তভোগী। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
স্থানীয়দের দাবি, সোহান আগে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মুক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকায় সোহান তাকে চুরির ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মুক্তারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া মুক্তার আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় তাকে চাপে ফেলে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং সেই অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে জড়ানো হয়ে থাকলে তাকে হয়রানি করা হবে না।’
কেকে/এআই