রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দলটির ইউনিয়ন সভাপতি মীর কাসেম মিঠুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিড়ি ব্যবসায়ী রমজান আলী ওরফে জিকুর বিরুদ্ধে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের শেখপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মিঠুসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মাইদুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করেছে। তবে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিকু।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠু ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদসহ চারজন আহত হন। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
মীর কাসেম মিঠু বলেন, ‘পাশের এলাকার এক দম্পতির তালাকের বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন।’
মীমাংসা সংক্রান্ত ১০ লাখ টাকাও তার কাছে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মিঠুর অভিযোগ, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে জিকুসহ ১৫-২০ জন সেখানে আসেন। এরপর তারা শার্টের কলার ধরে মারধর করেন এবং কার্যালয়ের চেয়ার ও নেতাদের ছবি ভাঙচুর করেন। মাদকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকায় তার ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলী ওরফে জিকু বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তিনি কার্যালয়ে হামলা করেননি।’
বরং মিঠুর ছেলেরাই ভাঙচুর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিড়ি ব্যবসা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে জিকু বলেন, ‘আমার বিড়ি যে এলাকায় চলে, ওনার বিড়িও সেই এলাকায় চলে। মূলত দ্বন্দ্ব হচ্ছে এ জায়গায়।’
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং প্রচার দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা ঘটনার খোঁজখবর নেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার জানান, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতির ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।
কেকে/এআই