ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১০ নম্বর কালাদহ ইউনিয়নের বড়িলবিল সুইচ গেইট সংলগ্ন বাহারচালা গ্রামে প্রতিপক্ষ রাজ মাহমুদের বিরুদ্ধে পুকুরে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রুবিনা আক্তার পুতুল বাদি হয়ে থানায় রাজ মাহমুদ, সুজন ও সুমনের উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল, সরপুটি, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রকারের ভেসে সাদা হয়ে আছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন এটি রীতিমত অন্যায় কারণ মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে কিন্তু পানির মাছের সঙ্গে কিসের শত্রুতা?
সৌদি প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বাড়ীর (সড়ক ঘেঁষে) দক্ষিণ পার্শ্বে একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে মাছ মরার পেছনে বিষ প্রয়োগ অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। তবে প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে তারই চাচা রাজ মাহমুদ ও চাচাতো ভাই সুজন ও সুমনদের সঙ্গে জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয় পথচারী বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো স্থানীয় ও সামাজিকভাবে না অইলে আইনের মাধ্যমে মিট-মিমাংসা অইতো, এহনা যে কী যুগ আইলে পুকুরে বিষ দেয়, কলা ও লেবুর বাগান কাইট্ট্রা ফেলায়। এরা কী মানুষ! যদি এটার উপযুক্ত বিচার হতো, তাহলে জিনিসপাতির (যারা কথা বলতে পারে না) সাথে শত্রুামি করতো না। ফসলের সাথে শত্রুামির উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’
প্রবাসীর স্ত্রী রুবিনা আক্তার পুতুল জানান, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। পরদিন বুধবার সকালে পুকুরে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরতে দেখে। প্রায় ১০-১২ বছর ধরে তিনি ওই পুকুরে মাছ চাষ করছেন। তার স্বামী পাঁচ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। সে সময় থেকে চাচা শ্বশুর ও তার দুই ছেলের পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। গত শুক্রবার সকালে চাচা শ্বশুর ও তার ছেলেরা তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় তার বাবা ও ভাই আইনের আশ্রয় নেন। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুকুরে মাছ মরে ভেসে ওঠে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রুবিনা আরও জানান, পুকুরে মাছ চাষ করে প্রতিবছর তিনি আয় করতেন। মাছ মরে যাওয়ায় এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। পূর্ববিরোধের জের ধরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
কেকে/এআই