জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও অপচয় রোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীর সব দেশেই সম্পদ সীমিত, বাংলাদেশের সম্পদ আরও সীমিত। বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার নিজ উদ্যেগে সাশ্রয়ী করতে পারলেই সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার টিএন্ডটি এলাকায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনে সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় চান না। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজ করেন। রাতের বেলায় অফিস শেষে বাহির হওয়ার সময় অফিসের অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখা এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করেন। তিনি নিজ হাতেই এসব কাজ করেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য করে সাশ্রয় করলেও সম্মিলিতভাবে তা বড় সাশ্রয়ে পরিণত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে সচেতনতার প্রয়োজন।’
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ভেতরে-বাইরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে চলবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা ইতিবাচক-নেতিবাচক আলোচনা যাই হোক না কেন, বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। নিয়মিত উদ্যোগ ও মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে যাচ্ছেন এবং অপরিচ্ছন্ন স্থান পরিষ্কারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ-আল-মাহবুব, কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম সাইফুল ইসলাম, কালাই সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যক্ষ তাইফুল ইসলাম ফিতা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম তালুকদার সোহেল, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলিম সরকার প্রমুখ।
কেকে/এআই