মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেন (৩৯) হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রনি শিকদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আরও যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাকের হোসেন। তিনি পরিবহনটির কাউন্টার মাস্টার হিসেবেও কাজ করতেন।
প্রথমে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বা অসুস্থতাজনিত বলে ধারণা করেন পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্বজনেরা। পরবর্তী সময়ে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই শাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
এদিকে, মৃত্যুর কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টি সামনে আসার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, শাকের হোসেনের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর এ দাবির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে, শাকের হোসেন হত্যার দ্রুত বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
কেকে/সাশ