কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পৌরসভার অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে। জমির সীমানা লঙ্ঘন ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে ভবনের তৃতীয় তলার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ঘটনায় মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামানের স্ত্রী জাহেদা বেগম উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন উলিপুর মৌজার জেএল নম্বর ১০৮, দাগ নম্বর ১৬৩ এবং খারিজ খতিয়ান নম্বর ৩১৫২-এর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মধ্যে ০.৬৮ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই জমির একটি অংশ জবরদখল করা হয়েছে। জমি পরিমাপ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ও স্থানীয় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির সীমানা নির্ধারণ এবং পৌরসভার অনুমোদিত নকশা ছাড়াই সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
জাহেদা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। স্মারক নম্বর উঃপৌঃ/প্রবিঃ/২০২৬-২৯৯-এর ওই নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমির মূল দলিল, অনুমোদিত নকশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জমা দিতে বলা হয়।
একই সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়।
পরে গত ৭ অক্টোবর জোবায়ের হোসেন কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। আবেদনে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে পৈতৃক জমির মূল দলিল ও নকশা সংগ্রহে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তবে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে ভবনটির তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফের স্বাক্ষরিত নিষেধাজ্ঞার কথাও তুলে ধরেছেন অভিযোগকারীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জায়দুল ইসলাম বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মালিকানাধীন জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং বিরোধপূর্ণ জমির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভবনমালিক জোবায়ের হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
কেকে/সাশ