গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এতে মোমেনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহকত্রী আহত হয়েছেন। এ সময় তার স্বামীকে মারধর, পুত্রবধূকে লাঞ্ছিত এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বারিষাব গ্রামের একটি বাড়ির সামনে। এ ঘটনায় মোমেনার স্বামী মোস্তফা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে অভিযুক্ত করে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী বায়জিদ (২৫) ও তার মা জুবেদা বেগম (৪৫) মোস্তফার ছেলে মাহাবুর হোসেনের বসতবাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিলেন। এতে বাধা দিলে তারা গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোস্তফার অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর অভিযুক্তরা তাদের ছেলের বাড়ির সীমানার টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী মোমেনা ও পুত্রবধূ উম্মে কুলসুম এগিয়ে এলে মোমেনাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত বায়জিদ পুত্রবধূ উম্মে কুলসুমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন এবং তার গলা থেকে এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান। চেইনটির মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা রাস্তা নির্মাণের হুমকি দিয়ে চলে যান।
আহত মোমেনা বেগম কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তি হলেন পাশের নয়ানগর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মেহেদী হাসান (২০)। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বায়জিদের বাড়িতে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কেকে/সাশ