ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের অভিযানের সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের একটি ফুটবল খেলার মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য-সংক্রান্তসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন রিয়াজুল।
পরে তার অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। রিয়াজুলকে আটক করার চেষ্টা করলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে রিয়াজুলকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হলেও পরে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের।
এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; দূরের একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি দেখতে পান। তাঁর দাবি, রিয়াজুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পুলিশ তাঁকে আটক করতে গিয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, তিনি পুলিশকে আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার বলেছেন।
এ বিষয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তখন তিনি একটি বিশেষ অভিযানে ছিলেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে—এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ওসি। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কেকে/সাশ