শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি      ● মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬       ● এবার ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ ডিজিটাল ভূমিসেবার সার্ভার      ● স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাহিদের      ● ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা, মা-ছেলেসহ নিহত পাঁচ      ● আর কত দিন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব, প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির      ● ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে লিটন-তাসকিন      
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনের ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মেলানিয়ার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশের ওলেশকি শহরে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনও।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ফার্স্ট লেডির কার্যালয় থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত এ বিরতি শুধু শহরটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে মেলানিয়া বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। সম্মুখসারির এই শহরটি ব্যাপক ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। সংঘাতের কারণে বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন। সেখানে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মতো জরুরি পণ্য সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তার হস্তক্ষেপ না থাকলে শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্ক বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দ্রুত মানবিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর অংশগ্রহণে দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে এ সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় একটি মানবিক করিডোর গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকেরা শহর ছেড়ে যেতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সেখানে পৌঁছানো যাবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্থানীয় যুদ্ধবিরতির সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ওলেশকি থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিক অন্যত্র চলে যেতে চান, তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পেসকভ বলেন, মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায় রাশিয়া। তার ভূমিকার প্রশংসা করে পেসকভ আরও জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

এর আগে, প্রায় এক বছর আগে মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি একটি গোপন যোগাযোগমাধ্যম বা ‘ব্যাক চ্যানেল’ তৈরি করেছিলেন। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর যুদ্ধের কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩৪ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগেও তিনি সহায়তা করেছেন।

মেলানিয়া জানিয়েছেন, ‘ওলেশকি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন। দুই দেশের বেসামরিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে শহরটিতে গিয়ে মানবিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

যেসব বাসিন্দা শহর ছাড়তে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবহন সরবরাহ করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের কেউ রাশিয়া, আবার কেউ ইউক্রেনে যেতে চাইতে পারেন—এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মেলানিয়া।

স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় নিজে এবং একটি ‘নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা’ রুশ ও ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করবে বলেও জানিয়েছেন মেলানিয়া। তবে সংস্থাটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়। যুদ্ধের আগে শহরটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। বর্তমানে সেখানে আনুমানিক দুই হাজার মানুষ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে শহরটির সাবেক বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন। পাশাপাশি সেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ওলেশকির বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এবং নিরাপদে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:   ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close