দীর্ঘ বিরতির পর গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের শিক্ষার্থী তাহসিনা রহমান। তবে সম্প্রতি চাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচনের সময় দেওয়া তার বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন সিন্ডিকেট নির্মূল, একটি ভেরিফায়েড টিউশন প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ চালু, সুদমুক্ত সহজ ঋণ প্রকল্প, স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গঠন, ‘সলিড ওয়েস্ট ফ্রি ক্যাম্পাস’ এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন তাহসিনা রহমান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সব প্রতিশ্রুতির কোনোটিই বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন টিউশন সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ভেরিফায়েড টিউশন প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও চাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে এসে এখনও তা চালু হয়নি।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সুদমুক্ত ও সহজ ঋণ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতিও ছিল তার ইশতেহারে। চাকসুর পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গঠন, ক্যাম্পাসকে কঠিন বর্জ্যমুক্ত করা এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাহসিনা। তবে এ সব উদ্যোগের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস তাহসিনা রহমান কিছু কর্মসূচি হাতে নিলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এতে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে মনে করছেন তারা।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৪-২৫ সেশনের এক শিক্ষার্থী আব্দুল বারী তমাল বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আমরা সেগুলোর বড় কোনো বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। বিশেষ করে টিউশন প্ল্যাটফর্ম ও ঋণ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘তাহসিনা শুরুর দিকে অল্প কিছু কার্যক্রম হাতে নিলেও পরবর্তী তাকে আর সেভাবে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন তিনি চাকসুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন, তার সঙ্গে আমরা বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি।’
এ ব্যপারে তাহসিনা রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। প্রত্যাশার বিপরীতে পরিবেশ সম্পাদিকার শূন্য কাজ কেবলই হতাশ করেছে শিক্ষার্থীদের। সেই প্রত্যাশার অংশ হিসেবেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
কেকে/এআই