নীলফামারী সদর উপজেলার কানিয়ালখাতা এলাকায় জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জবরদখল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ ও আইনি লড়াই চললেও দীর্ঘসূত্রিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী ও প্রকৃত আবেদনকারীরা।
জানা যায়, উপজেলার কানিয়ালখাতা গ্রামের অসীম দাসের ছেলে শান্ত দাস এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রকিবুজ্জামান রনি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি ও অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কানিয়ালখাতা মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১৮৩১-১৮৬২’-এর অর্পিত সম্পত্তির (হিসেব ভিপি কেস নম্বর ৩৭/৭৮) জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন স্থানীয় শান্ত দাস ও অন্যরা। কিন্তু মোহাব্বত আলী ও শফি উদ্দীন গং ওই সম্পত্তি জবরদখল করার উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজ ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং কিছু জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারের অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করে অভিযুক্তরা ওই জমিতে জোরপূর্বক স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে এর আগে একাধিকবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনা (ভূমি) কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত ও আদালত প্রদত্ত নির্দেশনা থাকলেও অভিযুক্তরা তার তোয়াক্কা করছেন না।
উল্টো স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
শান্ত দাস জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বারবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন কি এসএ শাখায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন সুফল আসেনি। এসএ শাখার মাধ্যমেই ভুক্তভোগীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ।
দ্রুত এই অবৈধ দখলদার ও জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং প্রকৃত ভোগদখলকারীদের সুরক্ষা দিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/এমএ