দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র লোহাগাড়া বটতলী শহর এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকার। গুরুত্বপূর্ণ এ শহরের বিভিন্ন মোড় ও অলিগলি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটির অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বটতলী শহরের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে ‘লোহাগাড়া বটতলী শহর পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়। শহরটির মহাসড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে আট শতাধিক ভাসমান দোকান বসে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাসমান দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা টোল বা চাঁদা আদায় করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় হলেও পরিচ্ছন্নতার নামে সেই অর্থের কোনো সুফল মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে বটতলী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের পাশ থেকে শুরু করে অলিগলির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। বর্জ্য নিষ্কাশন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পরিচ্ছন্নতার দোহাই দিয়ে এ পর্যন্ত আদায় করা লাখ লাখ টাকা কোথায় খরচ হয়েছে।
বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর কমিটির কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল। তবে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে উপজেলা প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও স্বার্থান্বেষী মহল বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। কার্যক্রমে বাধা প্রদানকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বর্জ্য নিষ্কাশন কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বটতলী শহরের বর্তমান নাজুক অবস্থা ও জনভোগান্তি নিরসনের বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহরের বর্জ্য অপসারণ ও সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এআই