দোকানের সামনে বড় ব্যানারে লেখা ‘৩০-৮০ শতাংশ মূল্যছাড়’। এমন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে পছন্দের জুতা কম দামে কিনতে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে সেই মূল্যছাড়ের আড়ালে জুতার দাম বাড়িয়ে ছাড় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী বাজারের কয়েকটি জুতার দোকানের বিরুদ্ধে। কোথাও পুরোনো, আবার কোথাও ত্রুটিপূর্ণ ও ছেঁড়া জুতা বিক্রিতেও মনগড়া দাম নির্ধারণ করে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
গত দুই-তিন দিনে নালিতাবাড়ী বাজারের কয়েকটি জুতার দোকান ঘুরে মূল্যছাড়ের কার্যক্রম নিয়ে এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে। পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও কয়েকটি দোকানে মনগড়া দাম নির্ধারণের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১০-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড় কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। তবে বাজারের কয়েকটি দোকানে জুতার গায়ে আগের নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকা এবং দাম বাড়িয়ে তার ওপর ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘোষিত ছাড়ের পর জুতার প্রকৃত দাম কত দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে ‘৫০-৮০ শতাংশ ছাড়’ লেখা ব্যানার দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেরই বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মানের জুতার প্রকৃত বাজারদর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে পণ্যের আগের দাম ও মান যাচাই না করেই তারা জুতা কিনছেন। পরে পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ অফারে জুতা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, জুতার গায়ে আগের নির্ধারিত মূল্য লেখা না থাকায় ছাড়ের হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু দোকানে নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ জুতাও অফারের আওতায় বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রেতা বলেন, ‘গতকাল ৮০০ টাকার একটি জুতা অফারে অর্ধেক দামে কিনেছিলাম। আজ সেটি পরে বাজারে আসার সময় জুতার চামড়া উঠে যায়। পরে জুতাটি নিয়ে দোকানে গেলে তারা বলেন, অফারের জুতা এমনই হবে।’
অন্যদিকে, যেসব দোকানে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে না, সেসব দোকানের কয়েকজন মালিকের দাবি, তাদের কাছে বিক্রির জন্য পুরোনো জুতার মজুত নেই। তাই তারা মূল্যছাড়ের কার্যক্রমে অংশ নেননি।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মূল্যছাড়ের মাধ্যমে একদিকে ক্রেতারা কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পান, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা পুরোনো মজুত বিক্রি করে নতুন পণ্য তোলার সুযোগ পান। তবে ছাড় দেওয়ার আগে পণ্যের প্রকৃত মূল্য স্পষ্ট না থাকলে ক্রেতাদের পক্ষে ছাড়ের যথার্থতা যাচাই করা কঠিন। তাই মূল্যছাড়ের ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ও মান সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাইমুন সুজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমার দোকানে এক কোটি টাকার জুতার মজুত রয়েছে। এ অফারের মাধ্যমে মজুত খালি করে নতুন জুতা তুলতে পারব।’
জুতার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রয়মূল্য বিবেচনা করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
নালিতাবাড়ী পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রিপন মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির জানান, কয়েকটি দোকানে মনগড়া দাম নির্ধারণের অভিযোগের কিছু সত্যতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোকে সতর্ক করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
কেকে/এআই