মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার প্রকাশ চৌমুহনী হুজুর মারা গেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা তাকে কোনো চেতনানাশক খাইয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে ফেলে রেখে যায়। পরবর্তী মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শনিবার ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।
জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজার মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কে বা কারা তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অচেতন করে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। তবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো রক্তাক্ত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ফলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, চেতনানাশক কোনো বস্তু খাইয়ে বা স্প্রে করে তাকে ফেলে রাখা হতে পারে। ঘটনার পর এক স্থানীয় যুবক তাকে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান মোশাহিদের মাধ্যমে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু মাওলানা জসিমের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে পেস্ট করেন। ভিডিওর সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী যুবকের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দ্রুত ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
একজন বরেণ্য আলেমকে এভাবে হারিয়ে পরিবার, বরুণা মাদরাসা ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতি। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই রহস্যজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কেকে/এমএ