প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের।
সরকারিভাবে বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই শনিবার রাতে বৈঠক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। সফরের আগে তাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের দাপ্তরিক কাজ শেষ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় একনেকের বৈঠক শুরু হলে তা দুপুরের খাবারের আগে শেষ করা সম্ভব হতো না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৈঠকটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববারের একনেক বৈঠকে মোট ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গ্যাসকূপ খনন প্রকল্প। এ ছাড়া ‘ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পও তালিকায় ছিল।
একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, নর্দমা উন্নয়ন এবং ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কারসংক্রান্ত প্রকল্পও অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখার কথা।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্পও একনেকের আলোচ্যসূচিতে ছিল।
পাশাপাশি দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপনের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কেকে/ এমএস