পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কিশোরগঞ্জ ও ঢাকাগামী যাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাসেবা নিতে ঢাকায় যাতায়াতকারীরা পড়েছেন বিপাকে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনন্যা পরিবহনের ৫০টি, অনন্যা ক্ল্যাসিকের ৫৭টি, জলসিঁড়ি পরিবহনের ১০০টি এবং উজানভাটির ৩০টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি পরিবহনের ২৩৭টি বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে এসে অনেক যাত্রীকে বিকল্প যানবাহনের খোঁজ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কায় পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়া কিংবা ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
যাত্রী রাজন হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে এসে বাস না পেয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। পরিবহন মালিকদের নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ কেন কষ্ট ভোগ করবে? দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানাই।’
আরেক যাত্রী মোস্তাফিজ বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এই রুটের বাসের ওপর অনেক মানুষ নির্ভরশীল। হঠাৎ বাস বন্ধ থাকায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প যানবাহনে যেতে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মালিকানা দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করা। এর মধ্যে অর্ধেক বাস তাদের এবং বাকি অর্ধেক ঢাকার মালিকদের। তবে গত ৫ তারিখের পর থেকে ঢাকার মালিকপক্ষ জোরপূর্বক তাদের বাস সরবরাহ করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে আপত্তি জানালে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
শহিদুল ইসলাম শহীদ আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকার মালিকপক্ষ একটি বাস সরবরাহ করেছে। এরপর তারা জানিয়েছেন, বাস সরবরাহের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু অপর পক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। বরং তাদের বাস চলবে, অন্যথায় কাউন্টার বন্ধ থাকবে—এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারাও ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঢাকায় গেলে তাদের বাস আটকে রাখা হয়। এমনকি বাসের চাকা খুলে নেওয়া এবং ব্যাটারি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। তারা এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ও বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, মহাখালী এলাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি পুরোনো বাস সরবরাহ এবং কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মহাখালীর মালিকেরা আমাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করছেন। তারা বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে পুরোনো গাড়ি দিতে চান। অথচ কিশোরগঞ্জের অন্যান্য পরিবহনে নতুন গাড়ি চলছে। পুরোনো গাড়ি নিতে রাজি না হওয়ায় তারা কাউন্টার বন্ধ করে দেন। কথায় কথায় কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমরা সমস্যায় পড়ছি। এ কারণে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।’
আনিসুজ্জামান বাবুল জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দুই পক্ষের বিরোধের সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত রুটে স্বাভাবিক পরিবহনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন তারা।
কেকে/ এমএস