সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে বিঘ্ন ও যাত্রীভোগান্তি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকায় প্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রধান ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেন। সাংবাদিকদের জানানো হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন—বাটজা।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রমের কারণে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিতসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটছে। ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য ও সমাধানের আশায় প্রতিদিন বলাকার সামনে ভিড় করছেন যাত্রীরা।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৪৪টি ফ্লাইটের ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৬৭টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রয়েছে ২৮টি।
এভিয়েশন বিটের সাংবাদিকদের অভিযোগ, গত ২০ দিন ধরে সৌদিগামী ফ্লাইটের সংকট ও যাত্রীভোগান্তি নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার চেয়েও পাওয়া যায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদের কাছে এ বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহ দেখাননি বলে অভিযোগ তাদের।
রোববার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রবেশে বাধার মুখে পড়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক পার্থ রহমান ও একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদ আনিস।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা জানান, সৌদি ফ্লাইট পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে তারা বলাকায় গিয়েছিলেন। তবে মূল ফটকে তাদের আটকে দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো সাংবাদিককে প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
যাত্রীভোগান্তির এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহে বাধা পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন বিটের সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাত্রীদের কাছে সঠিক পরিস্থিতি তুলে ধরার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কেকে/এআই