রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ডালিয়া আক্তার (৪৫) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আশিক (২৩), মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) ও মো. অনিক (১৯) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, চুরি করতে গিয়ে নয় পরিকল্পিত ভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৩ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন আব্দুল্লাপুর রসুলপুর বাজারের সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলায় নিজ বাসায় ডালিয়া আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে মো. অনিককে এবং পরে মো. আলমগীর হোসেন ও মো. আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তারা জানতেন, সকালে বাসায় গৃহকর্মীর প্রবেশের সুবিধার্থে দরজা খোলা রাখা হতো। এ সুযোগে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে তারা বাসায় প্রবেশ করেন। চুরির সময় ডালিয়া আক্তার বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে তাকে মারধর করে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নিহত স্কুল শিক্ষিকা ডালিয়ার মেয়ে লিজা জানান, তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। উদ্যেশ্য চুরি হলে চোর কিছু চুরি করলো না কেনো প্রশ্ন মেয়েসহ পরিবারের লোকজনের।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
কেকে/এআই