চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুর নূর সিফাতের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামী, শাশুড়ি ও দুই ননদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬৫) গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে নিহতের বাবা মোহাম্মদ নুর বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। অন্য আসামিরা হলেন সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ তারেক (২৬) এবং দুই ননদ সুমি আক্তার (৩৮) ও রাশেদা বেগম (৪৩)।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন সিফাতের সঙ্গে তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারেক দুবাই চলে যান। মৃত্যুর আগে সিফাত তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতের মা তার শ্বশুরবাড়িতে নাশতা নিয়ে যান। নাশতার পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগে সিফাতকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সিফাতের স্বামী তারেক। তার দাবি, পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল না। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে সিফাত আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর আগেও সিফাত আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নিহত সিফাত চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ নুর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরার ইলিয়াস খাঁ বাড়িতে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, সিফাতের আত্মহত্যাচেষ্টার একটি ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের বাবার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
কেকে/এআই