ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক গার্মেন্টসকর্মীর স্বজনরা।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমদাদুল হক ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। একই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে চাকরিরত এনামুল হকও মামলার আসামি হয়েছেন বলে তার পরিবারের দাবি। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাদের আসামি করা হয়েছে।
এ দিকে, গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকায় অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে এলাকায় পুরুষের উপস্থিতি কমে গেছে; মূলত বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুরাই রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের কাছে আরশাদুলের চায়ের দোকানের সামনে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় ওয়াসীম মিয়া ও এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এনামুল হককেও এ মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
এমদাদুল হককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, তিনি যদি বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে কীভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আবু সিদ্দিক (৭০) বলেন, ‘দাওয়াত দিতে গিয়ে যদি পুলিশ কাউকে ধরে নিয়ে যায়, তাহলে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া কি অপরাধ? এমদাদুল মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে। আমরা কেমন দেশে বসবাস করছি, যেখানে আত্মীয়ের বাড়িতে গেলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়?’
এমদাদুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি মুরুব্বি হিসেবে নিজে হাতে ধরে আমার ছেলেকে মিলনের বাড়িতে দাওয়াত দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এখন নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। বারবার মনে হচ্ছে, কেন আমি আমার ছেলেকে ওই বাড়িতে নিয়ে গেলাম! আমি চাই, আমার ছেলেকে এ মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।’
এনামুল হকের ভাই মারুফ হাসান বলেন, ‘আমার ভাই নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন। বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি এসেছিলেন। বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার ভাই কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাহলে তাকে কীভাবে এ মামলার আসামি করা হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘অভিযান চালানোর সময় আমরা তাকে পাই। শুনেছি, তিনি মিলনের আত্মীয়। অভিযান চলাকালে তিনি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা যাচাই করার সুযোগ হয়নি। আমরা শুনেছি, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে কে ভালো আর কে মন্দ, তা যাচাই করার সুযোগ তখন ছিল না। এই বিষয়ে আমার তেমন কোনো মন্তব্য নাই।’
কেকে/এআই