রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের দরজা খুলছে, মানতে হবে শর্ত-গুনতে হবে ফিও      ● ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে রেকর্ড      ● ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত      ● হাসিনার ফেরার গুঞ্জনে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৫৬      ● প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে স্থগিত একনেকের ১৫ প্রকল্প      ● নগর উন্নয়ন থেকে পুলিশের যানবাহন, রোববার একনেকে ওঠছে ১৫ প্রকল্প      
দেশজুড়ে
গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য ঈশ্বরগঞ্জের দুই গ্রাম
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৭:৩৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পুলিশের কাছ থেকে একাধিক মামলার আসামি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর(গুইলাকান্দা) ও সরিষা গ্রাম। পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান এড়াতে গ্রামের অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মিলন (৫০) ও নিষিদ্ধঘোষিত ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নয়ন মণ্ডল। উপজেলার সরিষা ও আশ্রবপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও এমদাদুল হক (৪৫) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে ডেকুয়ারচর ও সরিষা গ্রামে অর্ধশতাধিক পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য অভিযান চালান। নতুন করে দুজন গ্রেপ্তারের পর দুই গ্রামে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক পুরুষ রাতে বাড়িতে থাকছেন না। কেউ কেউ দিনে চুপিসারে বাড়িতে এসে আবার নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদরাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

খেলার মাঠে শাহীনের অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় পুলিশের সদস্যদের মারধর এবং তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে শাহীনের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ওয়াসিম মিয়া ও এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে শনিবার দিবাগত রাতে নতুন করে অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদ মিলন ও নয়ন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডেকুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও মারধরের ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে এলাকাবাসী গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রামে এখন কোনো পুরুষ লোক নেই। তারা রাতে বাড়িতে থাকছেন না। দিনে চুপিসারে বাড়িতে এসে আবার নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।’

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। কিন্তু ঢালাওভাবে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা উঠে যাবে।’

সরিষা গ্রামের বাসিন্দা আবু সিদ্দিক (৭০) বলেন, ‘পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুই গ্রামের প্রায় সব পুরুষ অন্যত্র চলে গেছেন। এতে গ্রাম দুটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।’

সরিষা গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হাসান বলেন, ‘আমরা চাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি হোক। কিন্তু এমদাদুল হকের মতো নিরপরাধ মানুষ কেন গ্রেপ্তার হলেন? আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এমদাদুলের মুক্তি কামনা করছি।’

গ্রেপ্তার এমদাদুল হকের মা মনোয়ারা বেগম (৬০) বলেন, ‘আমার ছেলেকে নিয়ে প্রতিবেশী মিলনের বাড়িতে নাতনির বিয়ের দাওয়াত দিতে যাই। তখন পুলিশ আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করে। আমার ছেলে খুব সহজ-সরল। প্রকৃত দোষীদের না পেয়ে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী কোন দলের হয় না। সে যেই হোক এবং যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  গ্রেপ্তার   আতঙ্ক   পুরুষ   শূন্য   ঈশ্বরগঞ্জ   গ্রাম  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close