ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ সময় আইন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তা উত্তম পরিকল্পনাকারী। আজ যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনায় এ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহির পাশাপাশি দেশের ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্লেটোর ন্যায়বিচারের ধারণা অনুযায়ী যোগ্যতা অনুসারে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করাই ন্যায়বিচার। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধারণা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিচারকদের বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা উচিত। কারণ, পার্থিব দায়িত্বের ঊর্ধ্বে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।’
দেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশের অনেক আইন এখনো ঔপনিবেশিক শাসনামলের বৈশিষ্ট্য বহন করছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রটি বহুমাত্রিক হওয়ায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সুযোগ ও শিক্ষার পেছনে সাধারণ মানুষের অবদান স্মরণ রাখতে হবে। বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।’
কেকে/এআই