জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি মুজিব কিল্লা। তবে নির্মাণের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি তেমন কোনো কাজে আসেনি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বর্তমানে সেগুলো পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। ভবনের কক্ষগুলো ধুলোবালিতে ভরে গেছে, নষ্ট হয়েছে সোলার প্যানেল, নেই সিলিং ফ্যান। জানালার গ্রিলে ধরেছে মরিচা, দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। চারপাশের মাটি রক্ষায় বসানো কংক্রিটের ব্লকও ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই আশ্রয়কেন্দ্র দুটিতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।
উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে এবং জোড়খালী ইউনিয়নের কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কিল্লা দুটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে স্থাপনা দুটির এমন বেহাল চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নির্মাণ করা হলেও কিল্লা দুটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দুটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুরের খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্মিত কিল্লাটি ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিল্লাটির উদ্বোধন করেন।
অন্যদিকে, কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্মিত কিল্লাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটিও উদ্বোধন করা হয়। কিল্লাটি নির্মাণে সরকার ১ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করে। পরে মেসার্স স্বপ্না কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
গোপালপুর এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কিল্লাটি নির্মাণের পর থেকে কোনো কাজে ব্যবহার হতে দেখেননি তারা। নির্মাণের পর থেকেই এটি ফাঁকা পড়ে আছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং স্থাপনাটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন বলেন, ‘গোপালপুর ও কলাদহ এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। তারা উন্নয়নের নামে এ টাকা হরিলুট করেছে। ভবন দুটির কাজ এতোটাই নিম্নমানের যা ব্যবহারের আগেই ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। কয়েক বছর আগে নির্মিত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের স্থাপনা এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত সংস্কার করে এগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন বলেন, ‘দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহপালিত প্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষাকার্যক্রম, কমিউনিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় কিল্লা দুটি যাতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ‘এসব স্থানে মাঝেমধ্যেই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। স্পটগুলোর ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কেকে/এআই