পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকার মহাখালী রুটে ২৫০টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশেষ করে পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুজ্জামান বাবুল জানান, তাদের নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ২৫০টি দূরপাল্লার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকার মহাখালী রুটে মূলত অনন্যা সুপার, অনন্যা ক্লাসিক, জলসিঁড়ি পরিবহন ও উজান-ভাটি পরিবহনের বাস যাত্রী পরিবহন করে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরের সামনে কথা হয় অপু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ কাজে কটিয়াদী যাব। দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি, বাস নেই। এখন বেলা সাড়ে তিনটা বাজে। কখন যাব, আর কখন ফিরে আসব, জানি না। অনেক বিড়ম্বনায় পড়ে গেছি।’
ঢাকা যাবেন পরিবার নিয়ে মোহাম্মদ শামীম। তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্ট যাওয়ার বাস নেই। সিএনজি দিয়ে যেতে হবে। দ্বিগুণ খরচ হবে।’
একই বাসস্ট্যান্ডে লোকাল বাস পথের সাথী ও রাজদূত পরিবহনের কাউন্টার ম্যান মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় তাদের বাসে যাত্রীর চাপ বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চালক জানান, কিশোরগঞ্জের বাসমালিকেরা তাদের পুরোনো বাস সরিয়ে নতুন বাস চালু করেন। কিন্তু ঢাকার মালিকেরা তাদের অংশের পুরোনো বাস পরিবর্তন করতে রাজি হননি। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল খান খোলা কাগজকে বলেন, ‘পূর্বঘোষণা ছাড়াই এভাবে বাস বন্ধ রাখায় চরম বিপদে পড়েছি। আমার ৫০টি বাসের সব কটির কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে হাজারো মানুষ ঢাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে বাস না পেয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।’
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুজ্জামান বাবুল আরও বলেন, ‘নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে পুরোনো বাস পরিবর্তন করে নতুন বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে।’
কেকে/এআই