মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মোছা. জোহরা বেগমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ের স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামের বাসিন্দা জোহরা বেগমের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জোহরা বেগম রামভদ্র গ্রামের মৃত আহম্মদ সরদারের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচিতি নম্বর ০১৩২০০০০৪৪১ এবং বীরাঙ্গনা হিসেবে সরকারি গেজেট নম্বর ২৪৪।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী সুন্দরগঞ্জ অঞ্চলে প্রবেশ করে। তারা তৎকালীন সিও (CO) অফিসে প্রধান ক্যাম্প স্থাপন করে। পরে স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের বাড়িতেও ক্যাম্প গড়ে তোলে। এসব ক্যাম্পসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার হন বহু নারী। জোহরা বেগম ছিলেন তাদেরই একজন। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেটে জোহরা বেগম বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
এদিকে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বীরাঙ্গনা জোহরা বেগমের বাড়ির সামনের সড়কটি তার নামে নামকরণের ঘোষণা দেন। তবে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি।
জোহরা বেগমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন তার ভাই জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি, বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সবুর, সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম এবং উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।
কেকে/এআই