সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন আশার আলো জাপানের বাজার      ● গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে সোমবার      ● সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের দরজা খুলছে, মানতে হবে শর্ত-গুনতে হবে ফিও      ● ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে রেকর্ড      ● ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত      ● হাসিনার ফেরার গুঞ্জনে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সিলিন্ডারে জিম্মি ভোক্তা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চলতি অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার ওপরে। এর মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২৯ অক্টোবর এ প্রস্তাবের ওপর শুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটছেই না। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানোর পরও কিনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে। কোথাও পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত না নেওয়ায় নতুন করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যেই আরেক দফা দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর চা দোকানি জসিমউদ্দিন বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পাওয়া যায় না। ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। দাম নিয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। মিরপুরের বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, গত শনিবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছি। বেশিরভাগ বিক্রেতা ক্রেতাদের জিম্মি করে বাড়তি টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করে। 

এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির সূত্র বলছে, দেশে আমদানি করার মতো অবকাঠামোগত সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির। গত আগস্টে ১৩টি ও সেপ্টেম্বরে ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। কেউ কেউ অন্যদের থেকে কিনে বাজারে কিছুটা সরবরাহ করছে, আর কারও সরবরাহ নামমাত্র। এতে সরবরাহে ঘাটতি রয়ে গেছে।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সৌদিতে ছড়িয়ে পড়ার পর গত মাসে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। জাহাজভাড়াও বাড়তে থাকে। কিন্তু দেশে দাম সমন্বয় করা হয় ৪ অক্টোবর। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় মজুত করা। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা— সব পর্যায়েই মজুত করা হয়েছে। এতে সংকট তৈরি হলে আগাম বেড়ে যায় দাম। বিইআরসি দাম বাড়ানোর পরও বাড়তি দাম নেওয়া থামেনি। বিশ্ববাজারে দাম এখন আরও বেশি। এর মধ্যে অন্যান্য খরচও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পরিবেশক ও আমদানিকারকরা। তাদের এসব দাবি আমলে নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি। তাই আপাতত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

কয়েকটি এলপিজি কোম্পানির শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, রান্নার পাশাপাশি শিল্প ও পরিবহন খাতে চাহিদা বাড়ছে। পুরো মজুত সক্ষমতা ও সব সিলিন্ডার বাজারে চালু থাকলে সংকট হতো না। গ্রাহকের কাছে একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে চারটি সিলিন্ডার লাগে। এটি সরবরাহ চেইন ধরে রাখে। রান্নার গ্যাসে মাসে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি। এতে ১২ কেজি করে ৮৩ লাখ সিলিন্ডার পায় গ্রাহক। যার জন্য দরকার ৩ কোটি ৩২ লাখ সিলিন্ডার, যা এখন নিয়মিত পাওয়া যায় না।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমদানি কমেনি। সরবরাহ সংকট হওয়ার কথা নয়। যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদের ঋণপত্র কিছুটা সহজ করতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। জ্বালানি বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অন্য সিলিন্ডার কেনা, দাম ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে।

লোয়াব ও বিইআরসি সূত্র বলছে, এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে। বাজারে সিলিন্ডার আছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ১০টি কোম্পানির সিলিন্ডার আছে ৩ কোটি ৭ লাখ। তার মানে ৪২ শতাংশ সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। এছাড়া সব কোম্পানি মিলে এলপিজি মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানির সক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ বাকিরা আমদানি না করায় ৪৭ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না। এর ফলে অনেক পরিবেশক এলপিজি পাচ্ছে না, অন্য পরিবেশকদের থেকে কিছু কিছু করে নিচ্ছে। আর গ্রাহক শুধু বাড়তি দাম নিয়ে নয়, সিলিন্ডার নিয়েও বিপাকে আছেন।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, মজুত একটা সমস্যা। তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো, প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে থাকা। ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে না। এতে অনেক পরিবেশক দেউলিয়া হওয়ার পথে। গ্রাহকেরও ভোগান্তি হচ্ছে। এসব সিলিন্ডার ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা উচিত। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, কয়েকটি কোম্পানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এক মাসেই ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আবার শুনানি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। লুণ্ঠনের বাজারে ভোক্তারা জিম্মি। বিইআরসি অনেকটা নিষ্ক্রিয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে মজুতে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সিলিন্ডার   জিম্মি   ভোক্তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close