বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পাশাপাশি ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্যাকেজ বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন অর্থনৈতিক মাত্রা পাবে।
সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ ছাড়া জাপানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু শহরে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ায় ইউনিক্লোর সদর দপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তরেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা। জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে।
তিন-চারটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা :
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের মধ্যে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। পররাষ্ট্র সচিবের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এসব আলোচনার আওতায় রয়েছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পৃথক চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের উদ্যোগও গুরুত্ব পেতে পারে।
বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব :
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে বাংলাদেশের ১২টি অগ্রাধিকার খাতে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর কয়েকটি বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিআইজি-বি) কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে পরিবহন ও নগর সংযোগ খাতে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদনশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল খাতে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার এবং জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো খাতে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার এবং কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে আরও ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণের তুলনায় বাংলাদেশে জাপানের প্রকৃত বিনিয়োগের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওঠানামা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে জাপানের নিট বিনিয়োগ ছিল ৭৮ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে তা কমে ৩৮ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। পরবর্তী দুই বছরে কিছতা পুনরুদ্ধার হলেও ২০২৫ সালে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ ঋণাত্মক ৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে, জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ মূলত যন্ত্রপাতি, শিল্প সরঞ্জাম ও যানবাহনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য উৎপাদিত সামগ্রী।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
২৭ অক্টোবর দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক :
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের আগে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ ঘোষণা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও রয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
জাইকা, জেট্রো ও জেবিআইসির সঙ্গে বৈঠক :
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
টয়োটা ও জেরার বিনিয়োগে শিল্পায়ন ও জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা :
জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। জাপানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বড় অংশ উৎপাদনশিল্প ও জ্বালানি খাতে ব্যয় হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক কেব্ল উৎপাদনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রকৌশলী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।
অন্যদিকে, শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকট মোকাবিলায় জাপানের বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান জেরা মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির সংকট কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং নতুন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সহায়তা মিলতে পারে।
তবে এসব বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেওয়া, প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি গড়েছিলেন জিয়াউর রহমান :
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। এই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক যোগাযোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ১৯৭৮ সালের এপ্রিলের সফর। ওই বছরের ৮ এপ্রিল তিনি জাপানের সম্রাট হিরোহিতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ১৯৮০ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন জাপানের প্রধানমন্ত্রী মাসায়োশি ওহিরার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতেও জাপান সফর করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতাও বিভিন্ন সময়ে সম্প্রসারিত হয়েছে। দুই দেশের এই দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সফর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা :
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া সফরসঙ্গী দলে রয়েছেন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’র চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সফরে আলোচিত বিনিয়োগ প্রস্তাব, সম্ভাব্য চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে।
কেকে/ এমএস