আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অর্থনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা তার এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল এবং দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলের চ্যানেল টেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যাংকিং খাতেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কথা বলছেন কি না, জানতে চাইলে নেতানিয়াহু সম্মতি জানান। এ ক্ষেত্রে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। ইসরায়েলের বসতি নীতিকে কেন্দ্র করে নেওয়া এসব পদক্ষেপ দেশটির কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর বিরল প্রতিক্রিয়া জানায় ব্যাংক অব ইসরায়েল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর সমাধান নয়। বরং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ এবং অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
রোববার (২৪ অক্টোবর) শতাধিক অর্থনীতিবিদ নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে ব্যাংক অব ইসরায়েলের সাবেক কর্মকর্তারা, সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর জ্যাকব ফ্রেনকেল এবং কয়েকজন নোবেলজয়ীও রয়েছেন।
চিঠিতে সতর্ক করা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বেকারত্ব বাড়তে পারে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ইসরায়েলের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান ও রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ব্যয় বহন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক এ পরিকল্পনাকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার আশঙ্কা, এ নীতি কোম্পানিগুলোকে বিদেশে চলে যেতে উৎসাহিত করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্য ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এদিকে রোববার নেতানিয়াহু নিজের সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান। তিনি বলেন, ইরানের শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার জন্য তাদের হাতে আরও দুই বছর সময় রয়েছে।
নির্বাচনী জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট—কোনোটিই সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কাও রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ