চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ছিলোনিয়া বিল সড়কে দূরত্বের হিসাব এক রকম, বাস্তবতা আরেক। যে পথ পাড়ি দিতে ১০ মিনিট লাগার কথা, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সেখানে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সময় বেশি লাগার পাশাপাশি যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়েও পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছিলোনিয়া বিল সড়কের চিত্র এমনই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশপাশের অনেক সড়কের উন্নয়ন হলেও প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশটির ভাগ্য বদলায়নি।
আজিমপুর আদর্শ বাজার থেকে শুরু হয়ে ছিলোনিয়া বিলের মাঝ দিয়ে সড়কটি গিয়ে মিশেছে ফটিকছড়ি পৌরসভার বিবিরহাটমুখী সড়কে। সরকারি নথিতে সড়কটির নাম ‘মফজল আহমদ সিকদার সড়ক’। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ছিলোনিয়া সড়ক নামেই পরিচিত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ পথ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন আশপাশের এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে সড়কটিতে ইট বিছিয়ে এইচবিবি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুন্দরপুর ইউনিয়ন অংশে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বিপরীতে পৌরসভা অংশের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ইউনিব্লক দিয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে একই সড়কের এক অংশে তুলনামূলক ভালো যোগাযোগব্যবস্থা থাকলেও ইউনিয়ন অংশে চলাচল করতে হচ্ছে দুর্ভোগ নিয়ে। সড়কটির বেহাল দশার প্রভাব পড়েছে যাতায়াতের খরচেও।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও মিনি ট্রাক চলাচল করে এ পথে। আগে এ পথে ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন সেখানে দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। সড়কের কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হওয়ায় সময় ও খরচ- দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন যাত্রীরা।
সড়কটি এড়িয়ে চলতে অনেকে আজিমপুর আদর্শ বাজার–বারৈয়ারঢালা সড়ক ঘুরে গন্তব্যে যান। এতে প্রায় ছয় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। বিশেষ করে প্রসবব্যথায় আক্রান্ত নারী কিংবা জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় এ বাড়তি দূরত্ব ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে চালকদের মধ্যেও। স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আরমান হোসেন বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হয়। অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও বেশি সময় লাগে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়।’
স্থানীয় কৃষক এনামুল হক বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা দেখে আসছি। এলাকার প্রায় সব সড়ক পাকা হলেও এ সড়কের কোনো উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এলাকাবাসীরা জানান, সড়কটির দুরবস্থার কথা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সড়কটি ইউনিব্লক অথবা পিচঢালাই দিয়ে টেকসইভাবে নির্মাণ করা হোক, যাতে নিয়মিত যাতায়াতের ভোগান্তি কমে।
সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রতিদিনই স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কসহ সুন্দরপুরের আরও পাঁচটি সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অবগত আছেন। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।’
তবে সংস্কারের আশ্বাসের পাশাপাশি কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা জানতে চান স্থানীয় বাসিন্দারা। ফটিকছড়ি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, সড়কটি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে। দ্রুত এ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে উন্নয়নকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি।
ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
কেকে/ এমএস