স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও মানুষ উপকৃত হয়। গবেষণার ফলে একজন চিকিৎসক যেমন পেশাগতভাবে উন্নতি লাভ করেন, তেমনি অসংখ্য রোগী রোগমুক্তি ও রোগ নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজে পান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর এস জি এম চৌধুরী সেমিনার হলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণা একটি দেশের নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক কাজ করার পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। বিদেশে গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে সেই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সঠিকভাবে গবেষণা করা গেলে দেশ ও মানুষ উপকৃত হবে। এতে চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়বে। পাশাপাশি অসংখ্য রোগী রোগমুক্তি ও রোগ নিয়ন্ত্রণের দিশা পাবেন। সেরিব্রাল পালসি ও চোখের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলেও জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অন্ধত্ব নিয়ে গবেষণার সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন। তার সহকর্মীদের অনেকে মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। পরে শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধে তারা একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তোলেন। ওই সংস্থার মাধ্যমে অসংখ্য শিশু উপকৃত হয়েছে। এ কাজে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও অর্থায়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভালো কাজ কখনো থেমে থাকে না। বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশের মানুষের চোখের চিকিৎসার জন্য ১৩০ মিলিয়ন ডলার দেবে। চিকিৎসকেরা সৎ উদ্দেশ্যে মানুষের কল্যাণে গবেষণা করলে সবার কাছ থেকেই সহযোগিতা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী।
সেরিব্রাল পালসি নিয়ে গবেষণার বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি এ রোগ নিয়েও কাজ করছেন। আগে এ বিষয়ে মূলত ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণা হতো। বাংলাদেশে কাজ শুরুর পর এখন অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশেও এ বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে।
তিনি জানান, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সরকার ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘দ্য রিসার্চ জার্নি: ফ্রম আইডিয়া টু পাবলিকেশন’ শীর্ষক সার্টিফায়েড রিসার্চ মেথডোলজি কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মনির-উজ-জামান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন।
এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া-আল-আজিজ।
কেকে/সাশ