শারদীয় দুর্গাপূজায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির সুফল মিলেছে পদ্মা, যমুনা সেতু ও কর্ণফুলী টানেলে। ১৯-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে এসব সেতু ও টানেলে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা বা উল্লেখযোগ্য যানজটের ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুসারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের দিকনির্দেশনায় এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে পদ্মা ও যমুনা সেতুতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়।
উৎসবকালীন যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু ভবনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়, এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি হটলাইন নম্বর ০১৭০০৭১৬৪৬৫ চালু করা হয়।
সেতুতে কোনো যানবাহন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসকে অবহিত করা হয়। সাইট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যানবাহন সচল করা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি, টোল আদায়, অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সচল রাখা এবং সম্ভাব্য যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যানচলাচল নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতুর অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পেলেও যমুনা সেতু এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। এ সময় তিনি যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং যাত্রীদের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতুর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন
সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন বিভিন্ন সাইট যেমন পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলি টানেল ও বিআরটি প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প এবং মুক্তারপুর সেতু ও পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬’-এর সময়ে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সেতু ভবনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টা রোস্টার ডিউটির মাধ্যম সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করেন এবং সকল সাইটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গৃহীত সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে ১৯-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিনে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৬১৬ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজার ৬ দিনে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯৭০ টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৯২ লক্ষ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা।
এছাড়া যমুনা সেতুতে ১৯-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিনে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪০১ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজার ৬ দিনে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৬৩ টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৮৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা।
কর্ণফুলী টানেলে ১৯-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিনে ২৭ হাজার ৯১৩ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ৭৯ লক্ষ ২৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর দুর্গাপূজার ৬ দিনে ২৯ হাজার ৮৬০ টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৮০ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
মুক্তারপুর সেতুতে ১৯-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ দিনে ৭৮ হাজার ৭৪৬ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ৪০ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৫৫ টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজার ৬ দিনে ৫৮ হাজার ৯৪৮ টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকা।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা এবং দক্ষতার প্রতিফলন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যানচলাচল নির্বিঘ্ন করতে সাইট অফিস, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং টোল আদায় ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকলে সহযোগিতা করেছেন, যা প্রশংসার দাবিদার।
কেকে/এমএ