সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৬৬      ● সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না পুলিশ      ● চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন আশার আলো জাপানের বাজার      ● গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে সোমবার      ● সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের দরজা খুলছে, মানতে হবে শর্ত-গুনতে হবে ফিও      ● ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে রেকর্ড      
দেশজুড়ে
চলনবিলে দেশীয় মাছের সংকটে শুটকি উৎপাদনে ভাটা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বিগত দিনে চলনবিলে দেশীয় প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেত।  দেশীয় প্রজাতির মাছকে কেন্দ্র করে চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, গুরুদাসপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় শুটকির চাতাল গড়ে উঠতো। বাঁশের মাচায় সারি সারি মাছ শুকানো, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর শুঁটকির ঘ্রাণে মুখর থাকত পুরো এলাকা। 

কিন্তু সেই চেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দেশি মাছ সংকটে সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ বিভিন্ন এলাকার  শুঁটকির চাতালগুলোতে কমেছে উৎপাদন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিছু চাতাল, কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন বহু শ্রমজীবী মানুষ।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উল্লাপাড়া ও তাড়াশের ৬০টি শুঁটকিমহালে উৎপাদন হয়েছিল ৩০২ মেট্রিক টন শুঁটকি। পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৮৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।

তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি নামক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শুটকির চাতালে নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা পুঁটি, খলশে, টেংরা, চেলা, টাকি ও চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ শুকানোর কাজ করছেন। তবে আগের তুলনায় কাঁচা মাছ কম থাকায় অনেক চাতালেই কাজের চাপ কম।

চাতাল মালিক আবু সাইদ জানান, গত বছর তার চাতালে প্রায় ৩০ টন শুঁটকি তৈরি হয়েছিল। এবার মাছের সংকটে উৎপাদন ১৫-২০ টনে নামতে পারে। অন্য এলাকা থেকে মাছ কিনে আনতে হওয়ায় খরচ বাড়ছে, কমছে লাভ।

শুঁটকি চাতালের শ্রমিক লাইলী বেগম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে তিনি দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। চাতাল বন্ধ হলে তার মতো শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, জলাশয় ভরাট, প্রজননক্ষেত্র নষ্ট, অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ এবং মাছ ধরার ক্ষতিকর পদ্ধতির কারণে দেশি মাছ কমছে। সঠিক তদারকি ও অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে কিছুটা হলেও চলনবিলের মাছ ও শুঁটকির ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, ফিরে আসবে চাতালগুলোর কর্মচাঞ্চল্য।

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলনবিলের শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও যায়। কিন্তু উৎপাদন কমায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। তাদের দাবি, মাছের আবাসস্থল রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক শুকানোর প্রযুক্তি ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, দেশি মাছ সংরক্ষণ, অবৈধ জাল বন্ধ এবং শুঁটকির মান উন্নয়নে কার্যক্রম চলছে।

কেকে/এআই 


আরও সংবাদ   বিষয়:  চলনবিল   দেশীয়   মাছ   সংকটে   শুটকি   উৎপাদন   ভাটা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close