সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৬৬      ● সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না পুলিশ      ● চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন আশার আলো জাপানের বাজার      ● গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে সোমবার      ● সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের দরজা খুলছে, মানতে হবে শর্ত-গুনতে হবে ফিও      ● ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে রেকর্ড      
দেশজুড়ে
সেতু আছে সংযোগ সড়ক নেই, কাঠের সাঁকোতে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ পিএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ৫:২৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন কোটি টাকার সেতু। আছে পাকা অবকাঠামো, কিন্তু নেই দুইপাশে ওঠানামার উপযোগী সংযোগ সড়ক। ফলে সেতু নির্মাণ হলেও বদলায়নি মানুষের দুর্ভোগ। বাধ্য হয়ে নদী পারাপারে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন এলাকাবাসী। 

সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার মানুষ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুর সুফল কবে মিলবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় গুংগুর নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির চিত্র এমনই। ৩২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে কসবা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষের সড়ক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় সেটি এখনো স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

সেতুর পাশে তৈরি করা কাঠের সাঁকোতে চলছে পারাপার। ছবি : প্রতিনিধি

সেতুর পাশে তৈরি করা কাঠের সাঁকোতে চলছে পারাপার। ছবি : প্রতিনিধি


সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও দুইপাশের সংযোগ সড়ক নিচু থাকায় ওঠানামা করা যাচ্ছে না। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর একপাড় থেকে অন্যপাড়ে যাতায়াতের জন্য সেতুর পাশে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন তারা। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোই এখন তাদের চলাচলের ভরসা।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই পথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, নতুন সেতু চালু হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, সহজ হবে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই প্রত্যাশা এখনও অধরা।

সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় নির্মাণকাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও মোস্তফা কামাল জেমি এন্টারপ্রাইজ। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক সম্পন্ন না হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য যদি মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়, তাহলে সংযোগ সড়ক ছাড়া সেটি কতটা কাজে আসছে? প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা কী ছিল, সংযোগ সড়কের কাজ কেন এখনও অসম্পূর্ণ এবং কবে নাগাদ পুরো সেতু চলাচলের উপযোগী হবে, এসব প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না দুই উপজেলার মানুষ। সেতু তৈরি হওয়ার পরেও সামান্য একটি কাঠের সেতু দিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন কাজটা শেষ করছেন না, আমাদের বুঝে আসছে না। আমি দ্রুত এই সমস্যা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও আমাদের মুশফিকুর রহমান এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আকন্দ বলেন, ‘কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। তবে মাটি কাটার ভেকু মেশিন না পাওয়ার কারণ দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এই কালক্ষেপণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

কিন্তু মাটি কাটার যন্ত্র না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে সংযোগ সড়কের কাজ কত দিন আটকে থাকবে, তার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন বিলম্বের দায় কে নেবে, আর প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করতে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে, এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে কাজ শেষ করতে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কসবা   সেতু   সংযোগ সড়ক   কাঠের   সাঁকো   ঝুঁকিপূর্ণ   পারাপার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close