ঢাকার ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে রং ও কালি তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় রাসায়নিক উপকরণ প্রক্রিয়াজাত করার সময় ছড়িয়ে পড়ছে ধুলা-বালি। কোথাও কোথাও বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ। কারখানাগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই, ব্যবহার করছেন না প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রীও। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধামরাইয়ের শরীফবাগ ও আইঙ্গনসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও রাসায়নিক উপকরণ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে রং ও কালি তৈরির কাজ করা হয়। এ সময় কারখানার আশপাশে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ে। অথচ কর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার এবং ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ধামরাই ও সাভার উপজেলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে এমন অন্তত এক ডজনর বেশি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার কার্যক্রম, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং শ্রমিকদের সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানা থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শরীফবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কালির জন্য এই কারখানা থেকে অনেক দুর্গন্ধ আসে। আমরা চলতে পারি না।’
শরিফুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘কারখানার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কালির জন্য শ্বাস নিতে পারি না। দ্রুত এসব কারখানা অপসারণের দাবি জানাই।’
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের উৎপাদিত কালি বহুতল ভবনের পাইলিং ও মেঝের কাজে ব্যবহার করা হয়। কারখানায় পুরোনো টায়ার বা অন্য কোনো উপকরণ পোড়ানো হয় না।
টায়ার পোড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে একটি কারখানার কর্মকর্তা আলী হোসেন বলেন, ‘টায়ার পোড়ানোর কোনো আলামত পেলে আমাকে বলবেন। আমরা পাইলিং এর কালি বানাই।’
তবে এসবের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নাজমুল হোসেন নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘মাস্ক লাগাই না, কোনো সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করি না। যে অবস্থায় দেখছেন, এ অবস্থাতেই কাজ করি।’
এদিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কারখানাগুলোর প্রভাব যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, ‘আমরা দুই-এক দিনের মধ্যে সেখানে অভিযান চালাব। কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কি না এবং পরিবেশ আইনের বিধিবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে কি না, তা দেখা হবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই