সরকারি ছুটির দিনে সরকার নির্ধারিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজির চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে মো. খাইরুল ইসলাম নামের এক ডিলারের বিরুদ্ধে। খাইরুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের খাদ্য অধিদতর কর্তৃক নির্ধারিত নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ধামর ফকিরের বাজারে (২১ ও ২২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের দিন) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চাল না পাওয়া কার্ডধারী র্নিমলা রানী ও শেফালী রানী জানান, চালের কার্ড থাকলেও চাল বিতরণের দিন ওই ইউনিয়নের ডিলার খাইরুল মাস্টার রোলে তাদের টিপসই রেখে চাল না দিয়ে কার্ড ফিরিয়ে দেন। এ ছাড়াও মাসে দুই কিস্তিতে ৬০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী বাস্তবে পেয়েছেন ২৭ কেজি চাল।
ওই ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারের বিরুদ্ধে বরাদ্দকৃত ৩০ কেজি চালের স্থানে কার্ডধারীদের ২৭-২৮ কেজি করে দেওয়া এবং কার্ড থাকা সত্ত্বেও সুবিধাভোগীদের চাল না দিয়ে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
কার্ডধারী মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কার্ডধারীকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু ডিলার মো. খাইরুল ইসলাম ও তার প্রতিনিধিরা প্রতি বস্তায় ২-৩ কেজি চাল কম দিয়ে ২৭-২৮ কেজি করে বিতরণ করছেন। কোনো সুবিধাভোগী পূর্ণ ৩০ কেজি চাল দাবি করলে বিএনপি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার মো. খাইরুল ইসলাম জানান, অফিসের সঙ্গে কথা বলে বিতরণ শুরু করেছিলাম। তারা আবার না করেছে বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছি। যারা পায়নি, তাদের বলেছি আসার জন্য, তারা আসে নাই। তবে মাপে কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি কথা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার হামিদা খাতুন জানান, আমাকে জানিয়ে চাল বিতরণ করেছে। সরকারি ছুটির দিনে বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি ছুটির দিনে চাল বিতরণ করেতে নিষেধ করেছিলাম। নিষেধ অমান্য করে সরকারি বন্ধের দিনে চাউল বিতরণসহ অনিয়মের কারণ জানতে চেয়ে তাকে শোকজ করা হবে।’
কেকে/এআই