মৌলভীবাজারের পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে পৌর শহরে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানা তিন দিনের অভিযানে বিভিন্ন সড়ক, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে প্রায় তিন হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করেছে পৌরসভা। এতে শহরের সৌন্দর্য কিছুটা ফিরলেও ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি পথচারীদের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রচুর ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল। এগুলো নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে মাইকিং করে আগে থেকেই অনুরোধ জানিয়েছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে অনেকেই তা না তোলায় গত শুক্র, শনি ও রোববার—টানা তিন দিন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করেন।
সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিগুলো ব্যানারমুক্ত হওয়ায় অনেক স্থানেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরে এসেছে। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাত দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে রাখায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সরফরাজ আহমেদ সরফু নিজ উদ্যোগে নিজের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। দুপুরে শহরের চৌমুহনা চত্বরে তিনি নিজের হাতে ব্যানার খুলে নেন। এ সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মী, তার সমর্থক এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এ বিষয়ে সরফরাজ আহমেদ বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণা শেষে ব্যানার ও পোস্টার সরিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। শ্রীমঙ্গলকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকদের আরও সচেতন হতে হবে।’
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৌরসভা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। মাইকিং করার পরও অনেকে নিজ উদ্যোগে ব্যানার না সরাওয়ায় আমরা অভিযানে নামতে বাধ্য হয়েছি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শহরের যানজট কমানো, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনস্বার্থে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কেকে/এআই