পিরোজপুরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার জানাজা ও নিজ বাড়িতে দাফন ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং মৌলিক অধিকার হরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা ও উদ্বেগের কথা জানান।
বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদানের পরও স্থানীয়ভাবে বাধা ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে তার শেষকৃত্য ও দাফন নিয়ে যে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আতঙ্কের কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্য ও স্থানীয় মানুষ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শোকাহত পরিবারের নারী সদস্য ও স্বজনদের নিজেদের হাতে কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি পাহারায় মধ্যরাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।’
‘মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষকৃত্য ও দাফনের অধিকার যদি বাধা, ভয়ভীতি ও ত্রাসের মুখেজ পড়ে, তবে তা শুধু মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নয়, মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারেরও গুরুতর লঙ্ঘন। মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা, পরিবারের শোক এবং মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকারকে এভাবে বিপন্ন করার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তার অনুসারী বা সহযোগী সংগঠনের ছত্রছায়ায় যদি ভীতি ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়। কোনো রাজনৈতিক শক্তিরই ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ কিংবা সমাজে ত্রাসের পরিবেশ তৈরির অধিকার নেই।’
সাইফুল হক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি সমাজে ভয়ভীতি, অসহিষ্ণুতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
কেকে/এমএ