টানা ছয় দিন ধরে চলা সড়ক অবরোধে অচল হয়ে পড়া সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। অবরোধকারীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাকি দাবিটিও আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। ফলে শিগগিরই চলমান সংকটের অবসান হতে পারে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসের হলরুমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, অবরোধকারীদের পাঁচটি প্রধান দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে। অন্য দাবিটি নিয়েও আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমাধানের সরকারি আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ অগ্রগতির ভিত্তিতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাজেক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনীও সেখান থেকে ফিরে আসবে।
এর আগে সোমবার বিকেলে উজোবাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ওয়াদুদ ভূইয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
বৈঠক ও পরবর্তী ব্রিফিংয়ে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে ছয় দিন আগে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি। এতে সাজেকের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ এবং খাগড়াছড়ির প্রধান সড়কপথে চলাচল ব্যাহত হয়।
অবরোধের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া হাজারো পর্যটক আটকা পড়েন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যাহত হয় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন কার্যক্রম।
কেকে/সাশ