অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পশ্চিম তীরে নিধনযজ্ঞ, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতাসহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এক নতুন প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন।
প্রতিবেদনে গাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের বিস্তার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরও জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেকে/ এমএস