মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে চান তারেক রহমান      ● টোকিওতে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকাইচির      ● সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় শিশুসহ নিহত ৫      ● বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের      ● ক্রসফায়ার বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বোঝাননি আইজিপি : পুলিশ সদরদপ্তর      ● অতি প্রবল হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, গতিবেগ হতে পারে ১২০-১৪০ কিমি      ● রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ      
জাতীয়
জাপানের ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের প্রত্যাশা, ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম আপডেট: ২৭.১০.২০২৬ ১:২৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার) জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে দুই দেশ। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে বিস্তৃত সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রধান উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বিকে নতুনভাবে সাজিয়ে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামোকে সমন্বিত করে একটি শক্তিশালী শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও দুই দেশ একমত হয়েছে।

পাঁচ বছরে এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধ খাতকে দুই দেশের পরিপূরক ও স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করব্যবস্থা, শুল্কায়ন ও কাস্টমস ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও নিয়মকানুনের উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন।

এ লক্ষ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ।

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আগ্রহ কাজে লাগাতে দেশটির একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি জাপান-বাংলাদেশ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্ল্যাটফর্ম এবং বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনের (বিএসইজেড) আওতায় সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

মাতারবাড়ী হবে শিল্প ও জ্বালানির কেন্দ্র

বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এ উদ্যোগে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাপান।

যৌথ বিবৃতিতে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা পওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় এটি প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, তেলের মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেও সহযোগিতা করবে দুই দেশ। এ বিষয়ে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত অভিপ্রায়পত্রকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে বিনিয়োগ

খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ।

এ সহযোগিতার মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা (আইটিইএস), ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে জাপান।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ অবাধ, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

স্থানীয় সরকার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের’ দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ইয়েন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ।

স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের আইনি কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহলজাহাজ দেওয়ার বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাপানের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেওয়ার বিষয়টি স্বাগত জানানো হয়েছে। সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল এবং বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনকে এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেছে দুই দেশ।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিকশিত হয়েছে। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের ধারাবাহিক উন্নয়ন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সফরে উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে সানায়ে তাকাইচিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  জাপান-বাংলাদেশ   বিনিয়োগ   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close