মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়      ● বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে চান তারেক রহমান      ● টোকিওতে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকাইচির      ● সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় শিশুসহ নিহত ৫      ● বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের      ● ক্রসফায়ার বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বোঝাননি আইজিপি : পুলিশ সদরদপ্তর      ● অতি প্রবল হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, গতিবেগ হতে পারে ১২০-১৪০ কিমি      
দেশজুড়ে
দুই পিলারে আটকে আছে সেতু, বাঁশের সাঁকোতে পারাপার
সালাহউদ্দিন জিকু, ফটিকছড়ি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দাঁড়িয়ে আছে দুটি পিলার। পাশে পড়ে থাকা রডে ধরেছে মরিচা। অথচ খাল পারাপারে স্থানীয় মানুষের ভরসা বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে সেই সাঁকো পার হতে হচ্ছে পথচারী ও কৃষকদের। সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তাদের দুর্ভোগ কমাতে। কিন্তু সাড়ে তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির অবসান হয়নি।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের দমদমা এলাকার ওমদা মিয়া সওদাগর বাড়ির পশ্চিম পাশে তেলপারই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির চিত্র এটি। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং কর্পোরেশন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তেলপারই খালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলনও করেছে। 


স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক দিন পর সেতুর কাজ শুরু হলেও দুটি পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখনো ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। আমরা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

নির্মাণকাজে তদারকির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘পিআইও কার্যালয় স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঠিকাদারকে আরও জোরালোভাবে তাগাদা দিলে কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও পিআইও কার্যালয়- উভয়েরই গাফিলতি রয়েছে।’

লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, ‘দমদমা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। অনেক তদবিরের পর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর ধরে কাজটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদার আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুতই নির্মাণকাজ শেষ করবেন।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. এরশাদ বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সেতুটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবু নাছের বলেন, ‘সেতুটির কার্যাদেশ ও প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে কার্যাদেশের মেয়াদও বাড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:   ফটিকছড়ি   পিলার   সেতু   বাঁশ   সাঁকো   পারাপার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close