মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়      ● বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে চান তারেক রহমান      ● টোকিওতে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকাইচির      ● সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় শিশুসহ নিহত ৫      ● বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের      ● ক্রসফায়ার বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বোঝাননি আইজিপি : পুলিশ সদরদপ্তর      ● অতি প্রবল হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, গতিবেগ হতে পারে ১২০-১৪০ কিমি      
দেশজুড়ে
ডোমারে অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডোমারে গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা। তাদের অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বড়রাউতা গ্রামের সাহার উদ্দিন পাড়ায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য তাদের ৪৯৭ শতাংশ তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি শতাংশ জমির দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। অথচ আশপাশের এলাকায় প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

জমির মালিকদের ভাষ্য, নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্য কোথাও জমি কেনা সম্ভব হবে না। এতে কৃষিনির্ভর অনেক পরিবার জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়বে। তাঁরা সাব-স্টেশন নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না; বরং বাজারমূল্য বিবেচনায় প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনও করেছেন তাঁরা।

জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতকপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দিবো, তবুও জমি দিবো।”

জমির মালিক রুপালী বেগম বলেন, তাদের পরিবারের অধিকাংশ জমিই অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বাজারদরের অর্ধেক মূল্য পেলেও তারা অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারতেন।

রুপালী বেগম বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব—এটাই আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?”

আরেক জমির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তাঁরা শুনতে পাচ্ছেন। তার দাবি, জমির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির পর জমি রেজিস্ট্রির উদ্যোগ নেওয়া হোক।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে তাদের কৃষিকাজ ও পারিবারিক জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  জমির ন্যায্যমূল্যের দাবি   মানববন্ধন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close