রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নির্বাচন বিভাগের দুই কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তারা সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা হলেন রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।
পরিদর্শন শেষে রেজাউল করিম বলেন, দুটি বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে। নির্বাচনের সময় সেখানে ভোটারদের ব্যাপক সমাগম হয়। দীর্ঘদিনের এ কেন্দ্রটি চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে স্থানীয় ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়নি।
সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গাফফার ও জাহেদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তন হলে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধাও কম। তাই তারা আগের কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান।
অন্যদিকে, চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোট গ্রহণের পরিবেশ বিবেচনায় চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে রাখা প্রয়োজন।
তবে কেন্দ্র পরিবর্তনের বিরোধিতাকারীদের অভিযোগ, তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। বিদ্যালয়টি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে যাতায়াতেও সমস্যা রয়েছে। নতুন কেন্দ্রে রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে, আগের ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। বিষয়টি তাঁদের জানানোও হয়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম এর আগে জানিয়েছিলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের চিঠি তাঁদের কাছে এসেছে। ভোটারসংখ্যার তারতম্যের কারণে এ ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ জন এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন।
কেকে/সাশ