নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গণবিক্ষোভ, গণসংযোগ ও পথসভা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারের পার্কিং এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মোহাম্মদপুর থানা ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
দলটির ঘোষিত দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
পথসভায় এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম এলাকায় পরিণত করা হয়েছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গোটা দেশকে একই পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মোহাম্মদপুরকে যেভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির এলাকায় পরিণত করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে গোটা দেশকে মোহাম্মদপুর বানানোর চেষ্টা চলছে। আমরা তা কোনোভাবেই হতে দেব না। এই মোহাম্মদপুরে ভালো মানুষও বসবাস করে।
তারা বলেন, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চায়, শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘মোহাম্মদপুরে যে সবকিছু খারাপ, তা কিন্তু নয়। এখানে অনেক ভালো মানুষও রয়েছেন। শুধু অভাব রয়েছে আইনের শাসনের। আমরা মোহাম্মদপুরের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে রয়েছি।’
তিনি মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নাগরিকদের নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এই ক্ষমতায় আসার পেছনে জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।’
পথসভায় বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নেতারা বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণ দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগের অভিযোগ সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, সুশাসন, আইনের শাসন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, হাসনাত আবদুল্লাহ, আক্তার হোসেন, আরিফুল ইসলাম আদিব, আলী আহসান জুনায়েদ, আব্দুল্লাহ আল আমিন, সরোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন ও সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশক্তি এবং মোহাম্মদপুর থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
কেকে/এআই