কুয়াকাটায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ঘিরে বিনিয়োগের প্রস্তাব, জমির মালিকানা এবং প্রস্তাবিত রেললাইনের সঙ্গে স্থাপনার অংশবিশেষের অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সমুদ্রের ধারে পাঁচতারকা হোটেল, কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রচার করা হচ্ছিল কুয়াকাটার ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পটি। প্রচারে এটিকে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাত্র চার লাখ টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ, বিনিয়োগকারীদের বছরে নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে থাকার সুবিধা এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রচার করা হয়।
তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও টাঙানো হয়েছে। ব্যানারে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন মাসুদ সাঈদী। তার প্রচার অনুযায়ী, সেখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রচারে শেয়ার কিনে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বিনা মূল্যে অবস্থান এবং বার্ষিক মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ও লভ্যাংশের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও এবং অন্য একজন নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কেকে/ এমএস