বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বাংলাদেশে জেবিআইসির কার্যালয় খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর      ● ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১১ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০      ● হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি      ● ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়      ● বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে চান তারেক রহমান      ● টোকিওতে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকাইচির      ● সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় শিশুসহ নিহত ৫      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ডেঙ্গুতে ভয়াল অক্টোবর
মোহাম্মদ উল্লাহ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কাই সত্যি হলো। ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এডিস মশাবাহিত এ রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। গত এক দিনে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। 

অন্যদিকে এই সময়ে আরও ২ হাজার ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গুতে ৪০০ জনের প্রাণ গেল। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই প্রাণ গেছে ১৫৫ জনের।

মঙ্গলবার বুলেটিনে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন ভর্তি হয়েছেন। আর অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২১৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, খুলনায় ২৫০, ময়মনসিংহে ৯৭, রাজশাহী ২২৯, রংপুরে ১১২ এবং সিলেটে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

বুলেটিন অনুসারে, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছে।

ভয়াল অক্টোবর : 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের বেশি।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪০০ জন। গত বছর একই সময়ে এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৯ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর হার গত বছরের চেয়ে আশঙ্কাজনক বেড়েছে।
 
একইসঙ্গে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। উল্লিখিত সময়ে (১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত) গত বছর ৬৬ হাজার ৪২৩ জন। অন্যদিকে চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। যা গত বছরের ১২ মাসের আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি। 

চলতি বছর ডেঙ্গুতে অক্টোবরই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। চলতি মাসে এরই মধ্যে প্রাণ গেছে ১৫৫ জনের। এর আগের মাস, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এই চিত্রই বলে দিচ্ছে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বাড়ছে। 

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা :

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার আরও আশঙ্কা আছে। বৃষ্টি শেষ হওয়ার এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রভাব থাকবে। মশা জীবনচক্রের ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়টি জানা গেছে। এ কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু, শীতকালের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে।

ডেঙ্গুর প্রতিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সারা বছর ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। এটা খুবই প্রাসঙ্গিক বিষয়। বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের তত্তাবধানে মশক নিধনের ক্ষেত্রে জনগণকেও শামিল হতে হবে। আমরা এখনও এটা ব্যাপকভাবে শুরু করিনি, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এখন সরকারকে মৃত্যুর হার কমানোর বিষয়ে জোর দিতে হবে। কারো একটু জ্বর হলেই বিনামূল্যে টেস্ট করাতে হবে। এরপর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। মাঝারি পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে অধিগ্রহণ করে ডেঙ্গু চিকিৎসা করাতে হবে। কারও শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হলে তাকে সেকেন্ডারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। শুধু টারশিয়ারি বা ঢাকাভিত্তিক বড় হাসপাতালগুলোতে রোগী চিকিৎসা করে পরিস্থিতি  সামাল দেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালযয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, অক্টোবর মাসের পরিস্থিতি দেখে এটা বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। কিন্তু, শীত এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে। এখন ডেঙ্গুর প্রতিকার ও প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। এটা এখন শুধু সরকারের বিষয় না। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক হয়ে এ রোগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। গর্ভবতী নারী, ছোটবাচ্চা বা অন্য জটিল রোগে আক্রান্তরা যদি ডেঙ্গুতে ভুগে তখন তার চিকিৎসায় বেশি জোর দিতে হবে। স্কুলের শিশুদের ফুল প্যান্ট ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যালয়ের আশপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। এমনকি আমাদের প্রত্যেকের ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডেঙ্গু   ভয়াল অক্টোবর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close