ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা না মানার পর তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। এদিকে ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনটি সূত্রের বরাতে ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।
ফ্লাভিও রোববারের নির্বাচনে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তবে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও তার দল লিবারেল পার্টি সোমবার (২৬ অক্টোবর) লুলার বিজয় মেনে নেওয়ার কথা জানায়।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিওকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার তাকে এ জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছিল, ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টিও পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত অভিবাসন তল্লাশিকেন্দ্র ব্যবহার করে দেশ ছাড়েননি।
ফ্লাভিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার তিনি বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করবেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তার সিনেটের মেয়াদ শেষ হলে সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েনের আশঙ্কা
ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরাতে ওয়াশিংটন ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে জইর বলসোনারোও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। দেশটির সরকারি ভবনে তার সমর্থকদের হামলার পর অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের মামলায় তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক সিনেটর রোজেরিও মারিনহো জানিয়েছেন, ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার খবরে তারা বিস্মিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রায় ছয় কোটি ভোট পাওয়ার পর তার বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ