খুলনার কয়রা-বেদকাশী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে সামান্য অসুস্থতার জন্যও স্থানীয়দের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। শুধু কয়রা নয়, পাশের শ্যামনগর উপজেলার মানুষও একসময় এ কেন্দ্র থেকে চিকিৎসাসেবা নিতেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮২ সালে কয়রা ইউনিয়নের শেষ সীমানায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ ভরসা ছিল।
কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বর্তমানে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসারের পদ ছয় বছর এবং উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ ১০ বছর ধরে শূন্য। একজন নার্স থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফার্মাসিস্টের পদটিও দুই বছর ধরে শূন্য রয়েছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে কোনোভাবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকেও বদলি করা হয়। এরপর থেকে কেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী, আব্দুল কুদ্দুস, রহিমা খাতুন ও হালিমা বেগম জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু থাকলে এলাকার মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ পেতেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হতো। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বয়স্ক মানুষ এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে আবারও চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধের বিষয়ে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি এ জেলায় নতুন যোগ দিয়েছেন। দুই বছর ধরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি এই প্রথম জানতে পেরেছেন। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কেকে/সাশ