কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি একই সড়কে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর-পিরিজপুর পাকা সড়কের দক্ষিণ গোবরিয়া (জাব্বা বাড়ি) মোড় থেকে পূর্ব গোবরিয়া ইশাতুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছুদিন আগে কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এলে যুবসমাজ ও এলাকাবাসী বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
খবর পেয়ে তৎকালীন উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে মানসম্মত উপাদান ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
তবে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারও ওই সড়কে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পাথরের সঙ্গে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখতে সাধারণ ভিটাবালুর মতো। এ ধরনের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে মো. লোকমান হোসাইন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে একাধিক ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছেন। তার প্রতিবাদলিপিতে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
লোকমান হোসাইন আরও বলেন, জনগণের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হওয়া উচিত। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এলাকাবাসী আশ্বাসের পরিবর্তে মানসম্মত সড়ক ও কার্যকর পদক্ষেপ চান।
স্থানীয়দের দাবি, মেসার্স ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্স কুলিয়ারচরের আরও কয়েকটি সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে। এসব উন্নয়নকাজেও আগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ বলেন, ওই সড়কে নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করার অভিযোগ তিনি শুনেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের বালু সরিয়ে মানসম্মত বালু ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেকে/সাশ