‘ওরা আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে, আবার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমরা ফাঁসি চাই’—এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়ে বিচার দাবি করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সহপাঠী মিম আক্তার।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার রংপুরের নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক ইউসুফ আলীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইউসুফ আলী কারাগারে থাকলেও তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা বাদীপক্ষকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে দ্রুত দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রংপুরের নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক ইউসুফ আলী কালীগঞ্জে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে সুযোগ পেয়ে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মা ও খালা অসুস্থ এক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলেন। শিশুটির চিকিৎসার জন্য তাঁরা টানা ১৫ দিন হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অভিযুক্ত এ ঘটনা ঘটান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ২১ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৪ আগস্ট ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়া বা মামলা ধামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
কেকে/সাশ